সম্প্রতি ইন্টারগভর্নমেন্টাল
অথরিটি অন ডেভেলপমেন্ট (উন্নয়ন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা) জানায় যে বৃষ্টিপাত
টানা চতুর্থ বছরের জন্য না হওয়ায়, এই অঞ্চলের প্রায় ৩ কোটি মানুষের জন্য অপুষ্টি, জীবন-জীবিকার
হুমকি এবং গুরুতর ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করবে।
আবহাওয়াবিদরা এই ভয়াবহ খরাকে
মানব সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন কে দায়ী করেছেন, যার ফলে ভারত মহাসাগরে উষ্ণতা বৃদ্ধি
পাচ্ছে, আর ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি করছে।
বেশিরভাগ আফ্রিকার দেশগুলির মতো,
পুর্ব আফ্রিকা তথা হর্ন অফ আফ্রিকার দেশগুলির অর্থনৈতিক প্রধান ভিত্তি হল কৃষি, যা
বৃষ্টিনির্ভর, এটি চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
ইন্টারগভর্নমেন্টাল অথরিটি অন
ডেভেলপমেন্টি এর নির্বাহী সচিব ওয়ার্কনেহ গেবেয়েহু বলেন “মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের
বৃষ্টিপাত এই অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । দুঃখজনকভাবে পর পর চারটি বছর এই
অঞ্চলের মানুষ বৃষ্টির মৌসুমে বৃষ্টিপাতের জন্য তাকিয়ে ছিল কিন্তু কোন বৃষ্টিপাত হয়নি”।
এই অবস্থা অন্যান্য পরিবেশ বিপর্যয় এর সাথে
যুক্ত হয়েছে সংঘাত, কোভিড-১৯ এর প্রভাব ও সামষ্ঠিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যা পুর্ব আফ্রিকা
তথা হর্ন অফ আফ্রিকার দেশগুলি জুড়ে তীব্র মাত্রার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার দিকে পরিচালিত
করেছে।
২০২২ সালের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে
কম বৃষ্টিপাতের ফলে ইতিমধ্যে সৃষ্ট অত্যন্ত শুষ্ক অবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা
রয়েছে, যা ১৯৮১ সালের পর থেকে এই মাত্রার অনাবৃষ্টি ও শুস্ক অবস্থা অনুভব করা হয়নি।
ইথিওপিয়া, কেনিয়া এবং সোমালিয়া, হ্রাসপ্রাপ্ত
বৃষ্টিপাতের দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে ।
গত বছরের শেষের দিকে স্বল্প বৃষ্টিপাতের
মৌসুমে বৃষ্টিপাতের অভাব এবং বর্তমান দীর্ঘ বর্ষা মৌসুমে চলমান খরার ফলে ইতিমধ্যে ফসলের
ক্ষতি এবং গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে খাদ্যের উচ্চ মূল্য এবং দুষ্প্রাপ্য চারণভূমি
এবং পানির সম্পদ হ্রাসের জন্য আন্তঃসাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে।
জাতিসংঘের-এর সাবেক বিজ্ঞান পরিচালক
ইভান্স মুকোলওয়ে বলেন, 'যখনই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ভারত মহাসাগরে তীব্র ঘূর্ণিঝড়
হয়, তখন এই পুর্ব আফ্রিকা তথা হর্ন অফ আফ্রিকার মানুষ দীর্ঘ খরার মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি
নেয়। এর কারণ হল, ঘূর্ণিঝড়গুলি বেশিরভাগ আর্দ্রতা শোষণ করে এবং এই অঞ্চলকে অতি-প্রয়োজনীয়
বৃষ্টিপাত থেকে বঞ্চিত করে। এটা কয়েক দশক ধরে একটি আবহাওয়ার প্যাটার্ন"।
সাহায্য সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই
উদ্বিগ্ন যে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলি ভবিষ্যতের দশকগুলিতে এই অঞ্চলকে
কীভাবে প্রভাবিত করবে।
সাহায্য সংস্থা মার্সি কর্পসের
আঞ্চলিক পরিচালক সান গ্র্যানভিল-রস বলেন এটি এই অঞ্চলের প্রথম খরা নয় এবং এটি শেষ হওয়ার
সম্ভাবনাও নেই। জলবায়ু অবস্থার অবনতি হওয়ার সাথে সাথে খরা আরও ঘন ঘন এবং গুরুতর হয়ে
উঠবে।
জাতিসংঘের মানবিক কার্যালয় সতর্ক
করেছে যে বর্তমান খরা পুর্ব আফ্রিকা তথা হর্ন অফ আফ্রিকার ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ জলবায়ু
জনিত জরুরী অবস্থার একটিতে পরিনত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।" এতে আরও বলা হয় সোমালিয়ার প্রায় ৫৫ লাখ মানুষকে সহায়তা ও খরা
মোকাবেলা করার জন্য যে প্রয়োজনীয় ১৫০ কোটি ডলারের আবেদন করা হয়েছে, তা এখন পযন্ত খুবই
কম অর্থায়ন করা হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ