অর্থনৈতিক দুর্দশা তীব্র হওয়ার কারনে নেপালে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা
অর্জিত হবে না
নেপালের
উচ্চ পর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার জানায় কোভিড-১৯ অতিমারী জনিত পর্যটন শিল্পের ক্ষতি, ব্যাপক বাণিজ্য
ঘাটতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি প্রভৃতির কারনে নেপাল তার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা
থেকে পিছিয়ে পড়বে।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে দুই কোটি
৯০ লাখ জনগোষ্টির নেপাল সরকার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ক্রমহ্রাসমান প্রবাহকে লাগাম
টেনে ধরার জন্য বিলাস দ্রব্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং একটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক
সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে বরখাস্ত করেছে।
ঐ সরকারী পলিসি মেকার রয়টারকে
আরও জানায় নেপালের জিডিপির প্রবৃদ্ধির ৭% লক্ষ্যমাত্রা
২০২২ আর্থিক বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত অর্জিত হবে না এবং প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪%
এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হতে পারে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের
পরিপ্রেক্ষিতে অপরিশোধিত তেল, কয়লা এবং ভোজ্য তেলের আকাশচুম্বী দাম নেপালের অর্থনীতিকে
বিপর্যস্ত করেছে যা করোনা অতিমারী চলাকালীন পর্যটন শিল্পের বড় ক্ষতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছিলো।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাক্তন
গভর্নর দীপেন্দ্র বাহাদুর ক্ষেত্রী বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল দেশের ব্যাপক বাণিজ্য
ঘাটতি, যা আশ্চর্যজনকভাবে সরকারের
বার্ষিক বাজেটের আকারের সমান হতে পারে।
সম্প্রতি আমদানি ব্যয় বেড়ে
যাওয়ায় অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি বছরে ৩৪.৫% বেড়ে ১.১৬ ট্রিলিয়ন নেপালি
রুপি বা ৯.৫ বিলিয়ন আমেরিকান ডলার হয়েছে।
উচ্চ দ্রব্যমূল্যের কারণে, ক্রমবর্ধমান
মুদ্রাস্ফীতি অনেক নেপালি জনগোষ্ঠির জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে। ক্ষেত্রী বলেন, খুচরা
মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানে পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ৭%, যা আর্থিক বছরের শেষে দুই অঙ্কের সংখ্যায়
পৌঁছাতে পারে।
নেপালের অর্থনৈতিক দুর্দশা শ্রীলঙ্কার
সাথে তুলনা টেনে এনেছে, যদিও কলম্বোর পরিস্থিতি অনেক বেশি গুরুতর।
বিশ্বব্যাংক তাদের দক্ষিণ এশিয়ার
প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বৈশ্বিক পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে চলতি অর্থবছরে নেপালের
প্রবৃদ্ধি ০.২ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৩.৭ শতাংশ এবং আগামী বছর ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৪.১
শতাংশে নেমে আসতে পারে।

0 মন্তব্যসমূহ