কাজাখস্তানের গম রপ্তানি নিষিদ্ধ
করার সিদ্ধান্ত দরিদ্র মধ্য এশিয়ার প্রতিবেশী
দেশগুলির জন্য সত্যিই খারাপ খবর, এই দেশগুলি তাদের গম আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজাখস্তানের
গমের উপর নির্ভর করে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম উৎপাদনকারী,
কাজাখস্তান দেশীয়ভাবে ব্যবহার করতে এবং অন্যান্য দেশে পুনরায় বিক্রি করার জন্য রাশিয়া
থেকে তুলনামূলকভাবে সস্তাদামে গম আমদানি করে।
কিন্তু রাশিয়া, বিশ্বের বৃহত্তম গম রপ্তানিকারক, মার্চ মাসে মস্কো-নেতৃত্বাধীন ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন (EEU)-এর সহযোগী সদস্য রাষ্ট্র কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, বেলারুশ এবং আর্মেনিয়ায় অস্থায়ীভাবে শস্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করে।
কাজাখ কৃষি মন্ত্রণালয় এখন বলছে, তারা ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু করে তিন মাসের জন্য গম ও আটা রপ্তানি যথাক্রমে ১০ লাখ টন ও ৩ লাখ টনে সীমাবদ্ধ রাখবে। সেই তারিখের পরেও বিধিনিষেধ বাড়ানো হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
রাশিয়ান সরকার বলেছে যে ইউক্রেনে আক্রমণের জন্য কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে
বাহ্যিক
সীমাবদ্ধতার মুখে অভ্যন্তরীণ খাদ্য বাজারকে রক্ষা করতে
৩০ জুন ২০২২ পর্যন্ত গম, রাই, বার্লি এবং ভুট্টা রপ্তানি স্থগিত করছে।
মস্কোর সিদ্ধান্তের অর্থ হ'ল কাজাখস্তান, যা ইইইউতে রাশিয়ান গমের বৃহত্তম ক্রেতা - তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের ও শুল্কমুক্ত
কৃষি
পণ্যগুলিতে অস্থায়ীভাবে অভিগম্যতা হারিয়ে ফেলেছে ।
কাজাখস্তানের ময়দা-মিল
কোম্পনীগুলি সতর্কতা প্রদান করে যে তাদের সরবরাহ শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে
কাজাখস্তানের শস্য প্রক্রিয়াকরন ইউনিয়ন সরকারকে রপ্তানি বন্ধ করার আহ্বান জানান।
প্রথম উপ-কৃষিমন্ত্রী আইদারবেক সাপারভের মতে, রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা "কাজাখ মিল
কোম্পনীগুলিকে জরুরীভিত্তিতে দেশীয় কৃষকদের কাছ থেকে শস্য কেনার দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করে," যারা রাশিয়ার চেয়ে বেশি দামে তাদের ফসল বিক্রি করে।
গম এবং অন্যান্য খাদ্য পণ্যগুলির দাম ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, কারন
ইউক্রেইন
গম এবং ভুট্টার একটি প্রধান উৎপাদকারী
রাষ্ট্র।
তাজিকিস্তান প্রতি বছর কাজাখস্তান থেকে প্রায় ১০ লাখ টন গম কিনে থাকে, যা তাজিকিস্তান-এর শস্য আমদানির ৯৪ শতাংশ । তাজিকিস্তানের উপর কাজাখস্তানের সিদ্ধান্তের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে কাজাখস্তান যদি জুনের পরেও নিষেধাজ্ঞাগুলি দীর্ঘায়িত করে তবে তাজিকিস্তান, যা মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে দরিদ্র দেশ - তীব্র খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হবে। তাজিক প্রেসিডেন্ট এমোমালি রহমন
কৃষকদের কঠোর পরিশ্রম করে দুই বছরের জন্য খাদ্য শস্য সংরক্ষন করার জন্য আহবান জানান।
প্রতিবেশী উজবেকিস্তান, মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দেশ যেখানে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ বাসিন্দা রয়েছে, এটি কাজাখ শস্যের বৃহত্তম ক্রেতা। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, উজবেকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের চাহিদার প্রায় ৩৫ শতাংশ গম আমদানি করে, যার বেশিরভাগই কাজাখস্তান থেকে।
কাজাখস্তানের রপ্তানির উপর নিষেধাজ্ঞার
সিদ্ধান্তের পরেই উজবেকিস্তানের অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিদেশ থেকে
৬,০০,০০০
টন শস্য কেনার পরিকল্পনা
করে।
উজবেকিস্তানের নিজস্ব গম উৎপাদন
২০২১-২২ সালের বাজার বছরে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, উৎপাদন প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন
টন হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, যা আগের বছরের ৬.২ মিলিয়ন থেকে কম।
তুর্কমেনিস্তান ২০২০ সালে ১৫.১
মিলিয়ন ডলার মূল্যের গম আমদানি করেছে, তার মধ্যে প্রধানত কাজাখস্তান থেকে ১২ মিলিয়ন
ডলার এর গম আমদানি করেছে।
ইইইউর সদস্য দেশ কিরগিজস্তান
তার আমদানিকৃত গমের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজাখস্তান থেকে পান। অন্যদিকে কিরগিজস্তানের প্রধান
শস্য সরবরাহকারী হলেন রাশিয়া।
ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন দেশসমুহে শস্য রপ্তানিতে
মস্কোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, সংকট নিরশনে কিরগিজস্তান
আগামী দিনে ৪,৫০,০০০ টন রাশিয়ান গম কেনার আশা করছে।

0 মন্তব্যসমূহ